Utso Bardhan – Self-made photographer
শিল্পের কোনো সীমানা নেই। লাইফপ্লাস আর্ট ম্যাগাজিন ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশে পৌঁছে গিয়েছে। আমরা আবিষ্কার করেছি প্রতিভাবান বাংলাদেশীয় তরুণ ফটোগ্রাফার উৎস বর্ধনকে। কোনো প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াই তিনি সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে অসাধারণ ফটোগ্রাফী করে চলেছেন।
ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে সুদীপ চক্রবর্তী কথা বলেছিলেন উৎসর সাথে। উৎস জানিয়েছেন তাঁর ফটোগ্রাফি শিল্পের যাত্রারপথের কথা।
প্রশ্নঃ আপনার সমন্ধে কিছু বলুন আমাদের ম্যাগাজিনের পাঠকদের।
উৎসঃ আমার নাম “উৎস বর্ধন” আমি সিলেট, বাংলাদেশ এ থাকি। আমি একজন স্লেফ মেইড ফটোগ্রাফার। আমার পরিবারে আমি আমার মা-বাবা আর আমার একটি ছোট বোন আছে। আমার বাবা “ক্লিভডন চা বাগান” নামক একটি জায়গায় চাকরি করেন। আমি আমি পেশায় একজন ছাএ, আমি অর্নাস ১ম বর্ষের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এ পড়াশোনা করছি। তবে এর পাশাপাশি আমি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করি।
প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফিতে ইন্টারেস্ট কবে থেকে শুরু হয়েছিল?
উৎসঃ ফটোগ্রাফি তে আমার আগ্রহ শুরু হয় “অষ্টম শ্রেনী” ২০১৭ সাল থেকে।
প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফির বিভিন্ন দিক আছে যেমন পোট্রেট, মডেলিং, স্ট্রিট ফটোগ্রাফি ইত্যাদি। আপনি কোন ধারায় কাজ করছেন?
উৎসঃ ডেইলি লাইফ, স্ট্রিট, ল্যান্ডস্কেপ, পোট্রেট, এগুলো নিয়ে কাজ করছি।






প্রশ্নঃ উক্ত ধারাটি কেনো?
উৎসঃ এগুলো নিয়ে কাজ করার কারণ হলো, আমি যখন আমার প্রথম ছবি তুলা শুরু করি, তখন থেকেই আমার ডেইলি লাইফ ফটোগ্রাফি নিয়ে খুব আগ্রহ ছিলো, মানুষের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে, মানুষের প্রতিদিনের গল্প কে একটা ফ্রেম এর মাধ্যমে তুলে ধরার যে বিষয় টা সেটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগতো। আর স্ট্রিট ফটোগ্রাফির যে বিষয় টা, আমি রীতিমতো আমার মোবাইল নিয়ে রাস্তায় ছবি তুলতে বের হতাম, তখন আমও যেই সাবজেক্ট ই পেতাম ওইগুলার ছবি তুলতাম, স্ট্রিট ফটোগ্রাফি তে অনেক সাবজেক্ট আছে।
ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফি মানে হলো “ভূ-দৃশ্য”, ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফি পৃথিবীর মধ্যে স্থানগুলি দেখায়, কখনও কখনও বিশাল এবং অন্তহীন, কিন্তু অন্য সময় মাইক্রোস্কোপিক। ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফগুলি সাধারণত প্রকৃতির উপস্থিতি ক্যাপচার করে তবে মানুষের তৈরি বৈশিষ্ট্য বা ল্যান্ডস্কেপের ঝামেলার উপরও ফোকাস করতে পারে। ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফি তে একটা জায়গার যে সৌন্দর্যতা সেটা ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা যায়, আর এটা আমার খুব বেশি পছন্দের।
পোট্রেট ফটোগ্রাফি যেটা, সেটা হলো প্রাকৃতিক আলোর প্রতিকৃতি পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি, বা প্রতিকৃতি হল এক ধরনের ফটোগ্রাফি যার লক্ষ্য কার্যকর আলো, ব্যাকড্রপ এবং ভঙ্গি ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিত্ব ক্যাপচার করা। একটি প্রতিকৃতি ফটোগ্রাফ শৈল্পিক বা ক্লিনিকাল হতে পারে। আর আমার ফটোগ্রাফি তে এই ৪ ধারার মধ্যে “পোট্রেট” ফটোগ্রাফি করতে ভালো লাগে বেশি।
প্রশ্নঃ আপনি কোন ধরনের ক্যামেরায় কাজ শুরু করেছিলেন?
উৎসঃ ২০১৭ সালে যখন আমি ফটোগ্রাফি শুরু করেছিলাম তখন আমার কোনো ক্যামেরা ছিলো না। আমি ১২,০০০ টাকা দামের মোবাইলে ফটোগ্রাফি শুরু করেছিলাম।
প্রশ্নঃ এখন কোন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন?
উৎসঃ আমি এখন “Canon Eos 60D” ক্যামেরা টি ব্যবহার করছি।
প্রশ্নঃ আপনার তোলা বিশেষ কোন শর্টটি প্রিয়?
উৎসঃ আমার তোলা তেমন বাছাইকৃত কোনো বিশেষ শট নেই, কারণ আমার কাছে সব ছবিগুলো বিশেষ রকম। তবে আমি “সেন্ট-মার্টিন আইলেন্ড” এ সিগাল বার্ড নামের পাখিগুলো ছবি তুলেছিলাম, সেগুলো আমার কাছে আমার প্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে একটি। এবং ২০২৪ সালের শীত এ আমি যে ছবিগুলো তুলেছিলাম সেগুলো আমার কাছে প্রিয়।
প্রশ্নঃ আপনি ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় বিশেষ কোনো সাফল্য পেয়েছেন কি?
উৎসঃ আমি ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় অনেক ধরনের সাফল্য পেয়েছি। আমি ন্যাশনাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়েও গিয়েছি৷ আমার সব থেকে বড় সাফল্য হলো আমি ইন্টারন্যাশনাল “35 Award (Russia)” নামে ফটোগ্রাফি এর্য়াড পেয়েছি। এবং অনেকগুলো ন্যাশনাল এক্সিবিশন এর্য়াড ও পেয়েছি।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে ফটোগ্রাফি সরঞ্জাম কি সহজলভ্য?
উৎসঃ বাংলাদেশ এ ফটোগ্রাফি সরঞ্জাম সহজলভ্য নয়। ক্যামেরার দাম থেকে শুরু করে ক্যামেরার প্রতিটা জিনিসই অনেক এক্সপেন্সিভ। সেটা এফোর্ট করা একজন মিডিল ক্লাস মানুষের মোটেও সম্ভব নয়।
প্রশ্নঃ আপনার দেশে ফটোগ্রাফি পেশায় একজনের ভবিষ্যৎ কি রকম?
উৎসঃ আমার দেশে একজন স্কিলড্ ফটোগ্রাফার এর ভবিষ্যৎ অন্যরকম, মানে সে ভবিষ্যতে আরো ভালো দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। যেমন বাংলাদেশের একজন নামকরা ফটোগ্রাফার “পৃথ রেজা”। যার নাম অনেকই শুনেছে, এবং বিদেশেও উনার অনেক খ্যাতি রয়েছে। আসলে মোটকথা পরিশ্রম করলে সবদিক দিয়েই এগিয়ে যাওয়া যায়, তবে সেটা আমাদের দেশে কষ্টকর।
প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি কি আপনার সখ না পেশা?
উৎসঃ ফটোগ্রাফি আমার শখ ও পেশা দুটোই বলা যায়। কারণ আমি শখের বশে ফটোগ্রাফি শুরু করেছিলাম। আর আমি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করি।
প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি ছাড়া আপনি আর কি করেন?
উৎসঃ ফটোগ্রাফি ছাড়া আমি একজন ছাএ আমি পড়াশোনা করি, এর পাশাপাশি আমার ছবি আঁকতে পছন্দ, আমি ডিজিটাল আর্ট করি, ডিজিটাল পোট্রেট এগুলো আঁকতে পছন্দ করি।
প্রশ্নঃ আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সমন্ধে কিছু বলুন।
উৎসঃ আমার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য আমি ফটোগ্রাফি নিয়ে চালিয়ে যেতে চাই, আমি নিজেকে আরো ডেভলপ্ করতে চাই আরো শিখতে চাই। আমি ইউরোপ দেশগুলোতে আমার ফটোগ্রাফি এর একটি ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চাই।
প্রশ্নঃ লাইফপ্লাস আর্ট ম্যাগাজিনের পাঠকদের জন্য কিছু বলুন
উৎসঃ লাইফ প্লাস ম্যাগাজিন আমার দেখা একটা অন্যরকম ম্যাগাজিন প্লাটফরম্। লাইফ প্লাস ম্যাগাজিন এর কন্টেট গুলো সবসময় ভিন্নতা থাকে,আমি নিজেও লাইফ প্লাস ম্যাগাজিন এর কন্টেটগুলো পড়ি এবং দেখি, আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে, আপনারা যারা লাইফ প্লাস ম্যাগাজিন এর কন্টেটগুলো দেখেন তারা সবসময় সাপোর্ট দিয়ে যাবেন।
সবকথার শেষ কথা, আমি একজন মধ্যবিও পরিবারের ছেলে। ফটোগ্রাফিটা আমার জন্য অনেক এক্সপেন্সিভ। যখন সবাই ক্যামেরা দিয়ে ভালো ভালো ছবি তুলতো, তখন আমার কোনো ক্যামেরা ছিলো না, আমি তখন মোবাইল দিয়ে মুটামুটি ছবি তুলতাম সেটা দেখে অনেকই হাসাহাসি করতো। আর আমার পক্ষে লাখ টাকা দিয়ে ক্যামেরা কিনা কখনোই সহজলভ্য ছিলো না , তখন আমি টাকা জমিয়ে ৫০০ টাকার বিনিময়ে স্টুডিও থেকে ক্যামেরা ভাড়া করে আনতাম ছবি তুলার জন্য! অনেক এ দিতো আবার অনেক এ দিতো না, তখন আমার অনেক বন্ধুদেরও ক্যামেরা ছিলো, ওরা দিতো না। সব মিলিয়ে আমার জন্য এটা খুবই কষ্টকর ছিলো।
আমি হাল ছারি নি, আমি আমার চেষ্টা এবং পরিশ্রম চালিয়ে গেছি। ফটোগ্রাফি টা আমাকে কেউ শেখায় নি আমি আজ যতটুকু আছি আর যতটুকু করেছি সব নিজের চেষ্টায়, সেজন্য আমি নিজেকে “Self-made Photographer” বলি।
আমি নিজেকে কখনো বেস্ট বলে দাবী করি নি, আমি শিখতে চাই আরো শিখতে চাই, কারন শিখার কোনো শেষ নেই। সবকিছুর পরে একটা কথাই বলতে চাই, জীবনে কখনো হাল ছারবেন না, চেষ্টা এবং পরিশ্রম করে যাবেন, সামনে অবশ্যই সুন্দর কিছু আসবে আপনার জন্য। সবসময় মনে রাখবেন, “Practice makes a man perfect”
আপনি কি একজন শিল্পী? যেকোনো শিল্পকলায় বিশেষ দক্ষতা বা অবদান আছে? আপনার কথা আমরা লাইফপ্লাস ম্যাগাজি্নের পক্ষ থেকে প্রকাশ করতে চাই। যোগাযোগ করুন এই নম্বরে। Call/Whatsapp : 094777 64615

