Shaitaan – Hindi Movie Review
শয়তান – হিন্দি সিনেমার বাংলা রিভিউ
সিনেমার শুরুতে ডিসক্লেইমার ভেসে উঠলো- এই সিনেমাটি কালো জাদু, তন্ত্র মন্ত্র বা কুসংস্কারে বিশ্বাস করতে উৎসাহিত করে না। যদিও পুরো সিনেমাটি অপ্রাকৃতিক ঘটনার উপরেই ভিত্তি করে বানানো।
দেশের বিজ্ঞান যতই অগ্রগতি করুক না কেন! ইসরো যতই চাঁদে – সূর্যে মহাকাশ যান পাঠাক না কেন, প্যারানরমাল বিষয়ের উপর গল্প বা সিনেমার প্রতি মানুষের আকর্ষণ দুনির্বার। সাধারণ দর্শকদের শিক্ষার মানের সাথে এই অপ্রাকৃতিক বিষয় আকর্ষণের কোনো সম্পর্কই নেই।
মাল্টিপ্লেক্সে, বিকাশ ভালের নির্দেশনায় ‘শয়তান’ সিনেমার দর্শকদের দেখে মালুম হয় এনারা আর যাই হন অশিক্ষিত নন। এনারা প্যারানরমাল বিষয়ের উপর সিনেমা উপভোগ করার সাথে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়ে কোল্ড ড্রিংকস আর পপকর্ন কেনার ক্ষমতা রাখেন। তাই শিক্ষা সামাজিক অবস্থান দিয়ে মানুষের রুচির বিচার করা অনাবশ্যক।
শহুরে দর্শকদের জন্য ‘ শয়তান ‘ এর মতন আজগুবি সিনেমা ভরা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে যখন বুঝতে হবে সিনেমাটির দর্শক ধরে রাখার মতন মশলা আছে।
নব্বইয়ের দশকে ভুতবাংলা, ভিরানা, ডাকবাংলা জাতীয় ভৌতিক বি – গ্রেড সিনেমা বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রচুর পরিমাণে যৌনতা ঠুসে সেসময় প্রযোজকরা চট জলদি টাকা তুলে নিতেন এই জাতীয় সিনেমা বানিয়ে।
অজয় দেবগন প্রযোজিত এবং অভিনীত ‘ শয়তান ‘ সিনেমাটি এখানেই তফাৎ গড়ে দিয়েছে। যৌনতার নাম গন্ধ নেই সিনেমাটিতে। হিন্দি সিনেমার ট্রেডমার্ক গান নাচ নেই। চার জনের একটি পরিবার আর একটি অন্টাগনিস্ট চরিত্রকে ঘিরে একরাতের টান টান ঘটনা, আপনার মন যতই আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক হোক না কেনো ঘটনার স্রোতে ভেসে যেতেই হবে।
আর একটা কথা, সিনেমাটি বি – গ্রেডর মতন সস্তায় বানানো সিনেমা নয়। অজয় দেবগন সহ আরো তিনজন প্রযোজক উদার ভাবে টাকা ঢেলে উচ্চমানের ফটোগ্রাফি লাইটিং সহকারে বর্তমান সময়ের সাথে মানানসই যথেষ্ট স্মার্ট সিনেমা বানিয়েছেন।
কবীর (অজয় দেবগন) একজন পুরো দস্তুর ফ্যামিলি ম্যান এবং আধুনিক মনস্ক পিতা। তার এক তরুণী কন্যা জাহ্নবী (জানকী বরিওলা) কিশোর পুত্র রুফ (আঙ্গদ) এবং স্ত্রী জ্যোতিকে ( জ্যোতিকা সারাভানান) নিয়ে সুখের সংসার।
গন্ডগোলের সূত্রপাত হয় ফার্ম হাউসে ছুটি কাটানোর সময় পরিবারটির মাঝে বনরাজ (আর মধাবন) রূপী অশুভ এক চরিত্রের অপ্রত্যাশিত আবির্ভাবে।
বনরাজ তার অপ্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা তরুণী জাহ্নবীর গতি বিধি, চিন্তা শক্তি নিয়ন্ত্রিত করতে থাকে। কবীরের পরিবার কন্যার প্রাণের স্বার্থে অসহায় ভাবে বনরাজের অশুভ শক্তির কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়।
এরপর ঘটনা শুধুমাত্র একটা অপ্রাকৃতিক ছবি হয়ে থাকে না। হয়ে যায় একটি প্যারানরমাল পারিবারিক থ্রিলার।
আঁতকে উঠতে হয় শয়তান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তরুণী জাহ্নবীর হাতে তার পিতার গালে সপাটে চরের দৃশ্যে। পিতা কবীরের অসহায়তা দর্শকদের বিচলিত করে। এইখানেই সিনেমাটির সার্থকতা। স্রেফ আজগুবি অলৌকিক ঘটনা জেনেও দর্শক গল্পের সাথে একাত্ম বোধ করেন। সিনেমার শেষ পর্যন্ত হলে বসে থাকতে বাধ্য হন।
একটা প্রশ্ন যদিও মাথায় ঘুরতে থাকে বনরাজের এহেন আচরণের উদ্যেশ্য কি? পরিবারে চারজন থাকলেও কেনো শুধু তরুণীটিকে নিয়ন্ত্রণ করে ? সিনেমার শেষে উত্তরও কিছুটা মেলে যখন বনরাজ ঘোষণা করে তার উদ্যেশ্য দুনিয়া নিয়ন্ত্রণ করা। তবুও বোঝা যায় না এই উদ্যেশ্য সফল করতে শুধু মাত্র মেয়েদেরই কেনো প্রয়োজন?
আসলে বিষয়টাই যখন অদ্ভুতুড়ে, তখন কি? কেন? কবে? কোথায়? অত প্রশ্ন মনে না এনে অতি অভিনয় বর্জিত, ঝরঝরে অভিনয় পুষ্ট সিনেমাটি উপভোগ করাই শ্রেয়।
কবীরের ভূমিকায় অজয় দেবগন যিনি সাধারণত অ্যাকশান ধর্মী সিনেমা করে থাকেন এই সিনেমাতে নিজের ইমেজ ভেঙেছেন ঘরোয় এক সাধারণ পিতার চরিত্রে অভিনয় করে।
তরুণী জাহ্নবীর যথেষ্ট কঠিন চরিত্রে জানকী ভালো ভাবেই উৎরেছেন।
দুই সন্তানের মা এবং কবীরের স্ত্রীর চরিত্রে জ্যোতিকা জোরালো অভিনয় করেছেন।
কিশোর অঙ্গদ রুফের চরিত্রে একদম ঠিক থাক। ছোটরা যথেষ্ঠ পরিণত অভিনয় করে অঙ্গদ তার প্রমাণ।
সবশেষে বনরাজের চরিত্রে আর মধবনের শক্তিশালী নেগেটিভ চরিত্রটির কথা বলতেই হয়। যথার্থ ভাবেই মেলোড্রামার প্রয়োগে এই চরিত্রটি কিন্তু গল্পের মূল আকর্ষণ।
শেষ পর্যন্ত কি হলো? কবীর কি সমর্থ হবে নিজ কন্যা জাহ্নবীকে অশুভ শক্তির হাত থেকে উদ্ধার করে পরিবারকে বিপদ মুক্ত করতে? জানতে হলে টিকিট কেটে কবীরের পরিবারের সাথে বৃষ্টি মুখর একটি আতঙ্কে ভরা রাত না হয় কাটিয়ে আসুন।
কৃষ্ণদেব ইয়াগনিকের লেখা, অমিল কিয়ানের টান টান চিত্রনাট্য, সুধাকর রেড্ডির স্মার্ট সিনেমাটোগ্রাফি ও অমিত ত্রিবেদী যোগ্য আবহ সঙ্গীতে সঙ্গত ঘটনার ঘনঘটায় আপনার টিকিটের দাম ঠিকই উসুল হয়ে যাবে।
রিভিউ – সুদীপ চক্রবর্তী
www.lifeplusmag.com

