বাংলারিভিউ

Stage to screen production – ATASH

কিছু সিনেমা শেষ হবার পরেও মনে রেশ থেকে যায়। স্টেজ টু স্ক্রিন পরিবেশনায় অন্তরা চৌধুরীর নির্দেশনায় মধ্য দৈর্ঘ্যের “আতস” সেইরকমই একটা সিনেমা। প্রযুক্তির যুগে প্রত্যহও বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের সিনেমা প্রকাশ পায় যদিও সেভাবে মনে দাগ কাটেনা। “আতস” কিন্তু প্রত্যাশা ছাপিয়ে গেছে।

চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ দুটি মাত্র চরিত্র – সিনেমাটির ব্যাপ্তি স্থান কাল অতিক্রম করে দর্শককে প্রেম ও মনুষত্বের জোরালো বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে।

স্টেজ টু স্ক্রিন প্রোডাকশনের “আতস” সিনেমাটির মত, সিনেমা শুরুর গল্প কিন্তু কম অভিনব নয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় একটি স্টেজে। একদল তরুনের পারফরমেন্সর মাধ্যমে। দেখানো হয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষ সমাজে কিভাবে কলুষিত করে চলেছে, মুল সিনেমার গল্পের রেশ ধরিয়ে স্ক্রিনে সিনেমাটি শুরু হলো। বাস্তবিকই স্টেজ টু স্ক্রিন ! অভিনব পরিকল্পনা।

দাঙ্গার কবল থেকে বাঁচতে এক প্রাক্তন প্রেমিক প্রেমিকা দেবী এবং সাদিক একটি ছোট্ট ঘরে দুজন দুজনকে আবিষ্কার করে।

দাঙ্গার ফলে প্রবল ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দুজনেরই পরিবার। তারা একে অপরের সম্প্রদায়কে দোষারোপ করতে থাকে । দেবী ও সাদিকের কথোপকথনে উঠে আসে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সমাজ দ্বিখণ্ডিত করা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা। উঠে আসে দেশভাগের কথা, বাবরি মজজিদ ধ্বংসের কথা। উঠে আসে দুই সম্প্রদায়ের মাঝে বিভেদ হিংসা এবং ঘৃণার কথা।
একই সাথে উঠে আসে আসে দুই সম্প্রদায়ের, সম্প্রীতির সাথে বসবাসের কথা।

সাদিক এবং বিবাহিতা দেবী অচিরেই উপলব্ধি করে, একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসা সুপ্ত ভাবে বয়ে চলেছে তাদের অন্তরে। এই তরুণ প্রেমিক প্রেমিকাকে ঘিরে ফেলেছে দাঙ্গাকারীরা। দেবী এবং সাদিক বাঁচতে চায় দাঙ্গা কারীদের কবল থেকে। শুরু করতে চায় নতুন জীবন। কিন্তু পরিত্রাণের পথ কি নেই? ভালোবাসার আগুন কি নেভাতে পারবে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ? সুগভীর এক সামাজিক বার্তা দিয়ে শেষ হয় ছায়াছবি – “আতস” ।

সাদিকের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করছেন মীর রহমান রহিম। হিন্দি বাংলা মিশ্র ডায়ালগে চরিত্রটি সুন্দর ফুটিয়ে তুলেছেন। এই তরুণ সুদর্শন অভিনেতা যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিবান। ভবিষ্যতে আরও অনেক ভালো কাজের আশা রাখা যেতে পারে।

দেবীর চরিত্রে অন্তরা রায়চৌধুরীর অভিনয় অনবদ্য। সিনেমা অনুরাগীরা অনকেই তাঁর কুশলী অভিনয়ের সাথে পরিচিত। সদ্য প্রদর্শিত সিনেমা “আতস” নির্মাণে তাঁর দক্ষ পরিচালনা দর্শককে চমকিত করলো।

সিনেমাটি এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছিলো দর্শকদের মনে যে – প্রদর্শন শেষে এক বিশিষ্ট ব্যাক্তি জানালেন – সিনেমা চলাকালীন ওনার দম বন্ধ হয়ে আসছিল, অভিনেতা অভিনেত্রির মতই নিজেকে আবদ্ধ অনুভব করছিলেন। সত্তিই! সিনেমার গল্পের সাথে উপস্থিত দর্শক একাত্ম হয়ে গেছিলেন। নির্দেশক অন্তরা রায়চৌধুরীর আছে অনেক প্রত্যাশা বেড়ে গেলো।

মানানসই আবহসঙ্গীত সিনেমাটির গতির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখেছে। শব্দ গ্রহণে হয়ত একটু খামতি আছে। কিছু ক্ষেত্রে ডায়লগ বুঝতে সামান্য অসুবিধা হয়েছে। যদিও সেটা অডিটোরিয়ামের সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা হলেও হতে পারে। তা সত্তেও ছোট খাটো ক্রুটি অতিক্রম করে আশা করা যায় “আতস” একটি অসাধারণ হৃদয় ছুয়ে যাওয়া মানবিক সিনেমা হিসাবে রয়ে যাবে সিনেমা অনুরাগীদের মাঝে।

Review by – Sudip Chakraborty

Like this article ? Like at our facebook page

Developed By SanccyWebs