আমি এ চাইনি: বাতায়নের এক বাংলা নাট্য নিবেদন
২৩ আগস্ট কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে লাইফপ্লাস ম্যাগাজিন প্রত্যক্ষ করল বাংলা নাটক আমি এ চাইনি-এর প্রথম মঞ্চাভিনয়।
নাটকটি লিখেছেন সুধাংশু দাশগুপ্ত, আর পরিচালনা করেছেন প্রবীণ নাট্যব্যক্তিত্ব নবকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি বেহালা বাতায়ন নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা।
কাহিনি
পরিচালকের ভাষায়, আমি এ চাইনি এমন এক পরিবারকে কেন্দ্র করে লেখা, যেখানে নিঃসন্তান দম্পতি এবং তাদের মানসিকভাবে অসুস্থ এক আত্মীয়ের দ্বন্দ্বের গল্প ফুটে ওঠে।
নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয় এক বাঙালি রায় পরিবারকে ঘিরে— যেখানে আছেন মিস্টার রায়, পরিবারের কর্তা; তাঁর অসমবয়স্কা সুন্দরী স্ত্রী অরু; এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ভাই সন্তু।
সন্তুর মানসিক অবস্থার গভীরে রয়েছে তাঁর অতীত রাজনৈতিক যোগসূত্র। ‘লাল রং’-এর প্রতি তাঁর দুর্বলতা ও ভয় আসলে প্রতিফলন ঘটায় ৭০-এর দশকের শুরুর সময়কার নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর জড়িয়ে পড়া জীবনের স্মৃতি। এই দিকটি নাটককে শুধু পারিবারিক সংঘাতেই সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং দিয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাজ-রাজনৈতিক মাত্রা।
এক ঘন্টা চল্লিশ মিনিটের এই অভিনয় দর্শকদের আবেগে ডুবিয়ে রাখে। কাহিনির সঙ্গে যুক্ত হয় ডাক্তার দেবাংশু, ইন্সপেক্টর পূর্ণেন্দু, এবং এক রহস্যময় মুসলিম গৃহকর্মীর উপস্থিতি। ধীরে ধীরে অতীতের অপরাধ ও গোপন সত্য উন্মোচিত হয় এবং শেষ দৃশ্যে ভেসে ওঠে সন্তুর মানসিক অবস্থার কারণ ও আবেগ ঘন পরিণতি।








অভিনয়
সকল অভিনেতাই অসাধারণ অভিনয় করেছেন। বিশেষভাবে বলতে হয় তরুণ অভিনেতার নাম, যিনি সন্তুর ভূমিকায় ছিলেন। তাঁর সংবেদনশীল এবং বাস্তবসম্মত অভিনয়— যেখানে রাজনৈতিক অতীতের আঘাত এক মানসিক রোগীর ভেতরে প্রতিফলিত হয়েছে— গোটা নাটকের প্রাণ হয়ে উঠেছে।

প্রধান নারী চরিত্রে ছিলেন জুঁই বাগচী। লাইফপ্লাস ম্যাগাজিন-কে তিনি জানালেন— আজকের দিনে দর্শকরা বড় পর্দা বা ছোট পর্দার পরিচিত মুখের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন, ফলে এমন মানসম্পন্ন নাটকের মূল্যায়ন অনেক সময় কম হয়। তবে তিনি আশাবাদী, ভবিষ্যতে বাংলা নাটকের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে।
এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত বার্বি দেব, যদিও মঞ্চে অভিনয় করেননি, তিনিও জানালেন যে তরুণ প্রজন্মের তরুন প্রজন্মের কাছে নাটকে কাজ করার অগাধ আগ্রহ আছে, যদিও দর্শক হিস্যায়ে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি হতাশাজনক।
পরিচালকের কথা

আমাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় পরিচালক নবকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন—
“আজকের দিনে শর্ট ফিল্ম, মাইক্রো মুভি আর রিলস-এর ভিড়ে আমরা কেবল ভালবাসার টানেই বাতায়ন চালিয়ে যাচ্ছি।”
খুব শিগগিরই লাইফপ্লাস ম্যাগাজিন প্রকাশ করবে তাঁর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার।
আমি এ চাইনি নাটকের প্রতিটি চরিত্র দক্ষ হাতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গল্পের আবেগ, সমাজ-রাজনৈতিক ইঙ্গিত, উত্তেজনার টানটান ধারা আর নবকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনবদ্য পরিচালনা দর্শকের মনে বিশেষ ছাপ ফেলে।
নাটকটির পরবর্তী প্রদর্শনী হবে ১৮ই সেপ্টেম্বর আমরা আমাদের পাঠক, অনুসারী ও সৃজনপ্রেমীদের অনুরোধ করছি এই অসাধারণ নাট্যপ্রদর্শনী অবশ্যই দেখতে যান।
লাইফপ্লাস বিশ্বাস করে, নাটকের প্রতি আরও বেশি সমর্থন প্রয়োজন— বিশেষত তরুণ প্রজন্মের। কারণ মঞ্চের অভিনয় সবসময় একটানা নিবেদন, পরিশ্রম আর সৃজনশীলতার ফসল, যা সরাসরি দর্শককে স্পর্শ করে।
👉 আমাদের সঙ্গে থাকুন, খুব শিগগিরই আসছে জুঁই বাগচীর ভিডিও সাক্ষাৎকার এবং নবকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ণ সাক্ষাৎকার লাইফপ্লাস ম্যাগাজিন-এ।
অভিনয়শিল্পী
মঞ্চে প্রাণসঞ্চার করেছেন একদল প্রতিভাবান শিল্পী—
কল্যাণ – সৌরিশ ব্যানার্জী
অরু – জুঁই বাগচী
সন্তু – শুভদীপ চক্রবর্তী
ডাক্তার – শ্যামল মিত্র
পুলিশ – পার্থ সরকার
ইদ্রিশ – সুরজিত দত্ত
রামবৃজ – রাজীব মুখার্জী
তাঁদের প্রত্যেকের অভিনয় নাটকটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে— গাঢ় আবেগ, শক্তিশালী প্রকাশভঙ্গি এবং চরিত্রের প্রতি আন্তরিক নিষ্ঠা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
সৃজনশীল ও প্রযোজনা সহযোগিতা
মঞ্চের আড়ালে থেকেও নাটকের সফলতায় বিশেষ অবদান রেখেছেন একদল নিবেদিতপ্রাণ কর্মী—
- দোলা চ্যাটার্জী
- পুষ্পিতা হালদার
- বর্ণালী মালিক
- ঝুমকি সেন
- অদিতি গাঙ্গুলি
- শেখর মুখোপাধ্যায়
- দেবরতি ঘোষ
- বার্বি দেব
- পল্লব মুখোপাধ্যায়
তাঁদের নিখুঁত সমন্বয়, মঞ্চসজ্জা ও প্রযোজনা সহযোগিতা আমি এ চাইনি নাটকটিকে স্মরণীয় করে তুলেছে।

—————————-
Lifeplus Magazine feature artists, photographers, actors, and performers, sharing their inspiring journeys through interviews and event coverage. Plus, we review films, short films, art exhibitions, and books to amplify creative works.
Our Services:
✅ Advertising & Promotions
✅ Featured Interviews
✅ Custom Reviews
✅ Ad Design & Photography
📩 For promotional inquiries : 094777 64615


Pingback: Ami E Chaini: A Powerful Bengali Play by Behala Batayan